প্রমাণহীন দেশদ্রোহ, অস্বীকৃত হত্যা মামলা: চিন্ময় প্রভুর কারাবাস কি আইনের অপব্যবহার?
নিজস্ব প্রতিবেদক,
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এখনো কারাগারে রয়েছেন চিন্ময় প্রভু। তবে তার বিরুদ্ধে আনা একের পর এক অভিযোগ ও মামলার বাস্তব ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বহিস্কৃত নেতা ফিরোজের দায়ের করা একটি মামলায় চিন্ময় প্রভুকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ ছিল—জাতীয় পতাকা অবমাননা ও দেশদ্রোহী কার্যকলাপ। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দণ্ডবিধির দেশদ্রোহী ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
কিন্তু গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আলোচিত ঘটনার সময় জাতীয় পতাকা দুটি দুটি আলাদা আলাদা বাঁশে স্থাপিত ছিল। অর্থাৎ, একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো শারীরিক সংযুক্তি বা অবমাননার দৃশ্য পাওয়া যায় না—যা অভিযোগের মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এদিকে ডিবির হেফাজতে থাকা অবস্থায় আরেকটি গুরুতর ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফকে দুর্বৃত্তরা নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আলিফের বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে চিন্ময় প্রভুসহ একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়।
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটি এখানেই—
আইনজীবী আলিফ হত্যার সময় চিন্ময় প্রভু ডিবির হেফাজতে ছিলেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাস্টডিতে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে একই সময়ে একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন? এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে যদি কাউকে আসামি হিসেবে জেলে আটকে রাখা হয়, তাহলে তা সরাসরি আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।
তবে পরবর্তীতে আইনজীবী আলিফের বাবা নিজেই গণমাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেন, তিনি চিন্ময় প্রভুর নাম ওই হত্যা মামলায় উল্লেখ করেননি। তার দাবি অনুযায়ী, মামলার এজাহারে চিন্ময় প্রভুর কোনো সম্পৃক্ততার উল্লেখ নেই।
এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
যদি জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ ভিডিও প্রমাণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ না হয়, যদি হত্যা মামলায় বাদী নিজেই নাম অস্বীকার করেন, এবং যদি ঘটনার সময় অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতেই থাকেন—তবে কোন আইনি ও নৈতিক ভিত্তিতে চিন্ময় প্রভু এখনো কারাগারে?
অন্যদিকে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার DW বাংলা কে দেয়া এক প্রতিবেদনে বলেন, সরকার চাই বলে তিনি কারাগারে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রকে ‘ভুয়া‘ মামলায় ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে৷
এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে একজন নাগরিককে অনির্দিষ্টভাবে বন্দি করে রাখা হলে, তা শুধু একটি ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ নয়—বরং তা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সরাসরি আঘাত।
নীরবতা এখানে কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং প্রতিটি নীরব দিন নতুন করে এই প্রশ্নই উসকে দিচ্ছে— আইন কি এখানে ন্যায়বিচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, না কি কাউকে আটকে রাখার হাতিয়ার হিসেবে?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থার স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে, পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



%20.png)